সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গরুর ক্ষুরা রোগের কারণ, লক্ষণ ও ঘরোয়া প্রতিকার: খামারকে লোকসান থেকে বাঁচানোর সম্পূর্ণ গাইড

বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে করণীয়: লক্ষণ, ঘরোয়া যত্ন ও ঔষধ

 

বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে করণীয়


বিড়াল আমাদের পরিবারের সদস্যের মতোই ভালবাসায় অংশিদার। সেজন্য তার সামান্য অসুস্থতাও আমাদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দেখাদেয়। মৌসুম পরিবর্তন বা আবহাওয়ার হঠাত্ পরিবর্তনের কারণে মানুষের মতো বিড়ালেরও ঠান্ডা লাগাটা সাভাবিক। আজকের ব্লগে মাধ্যমে আমরা জানবো বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে করণীয় কি, এর লক্ষণ এবং সঠিক চিকিৎসা সম্পর্কে।


বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে কিভাবে বুঝবো

বিড়ালের ঠান্ডা, সাধারণত আপার রেসপিরেটরি ইনফেকশন বা URI নামে পরিচিত। কিছু শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন দেখে বুঝতে পরা যায় যে বিড়ালের ঠান্ডা লেগেছে। নিচে লক্ষণগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:


১. প্রধান শারীরিক লক্ষণ

বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে তার শারীরিক কিছু লক্ষ্যণ দেখে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার আদরের বিড়ালটি ঠান্ডায় আক্রান্ত। এসময় বিড়ালের মধ্যে আপনি যে সমস্ত লক্ষ্যণ দেখতে পাবেন সেগুলো নিম্নরুপ:

হাঁচি ও কাশি: মানুষের মত বিড়ালেরও ঠান্ডা লাগলে হাঁচি-কাশি আসে। মানুষের মত বিড়ালের ক্ষেত্রেও হাঁচি ও কাশি হচ্ছে ঠান্ডা লাগার প্রধান লক্ষণ।

চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া: বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে চোখ এবং নাক দিয়ে অঝুরে পানি বা আঠালো তরল (ডিসচার্জ) পড়তে থাকে।

নাক বন্ধ হওয়া: ঠান্ডা লাগলে বিড়ালের নাক বন্ধ থাকে। তাই বিড়াল মুখ দিয়ে শ্বাস নেয় এবং শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হতে পারে।

জ্বর: বিড়ালের শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম থাকতে পারে। মনে রাখা ভাল যে বিড়ালের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ১০০.৫° ডিগ্রি-ফারেনহাইট থেকে ১০২.৫° ডিগ্রি-ফারেনহাইট)।


২. আচরণগত লক্ষণ

ঠান্ডা লাগলে বিড়ালের আচরণগত কিছু লক্ষ্যণ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন:

খাবারে অরুচি: আপনি যদি খাবার সময় বিড়ালের প্রতি খেয়াল করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে বিড়াল নাক দিয়ে শুকে শুকে খাবার খায়। ঠান্ডা লাগলে নাক বন্ধ থাকার কারণে বিড়াল খাবারের গন্ধ পায় না, ফলে খাওয়া-দাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় অথবা কমিয়ে দেয়।

ক্লান্তি ও অলসতা: বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে সে সারাক্ষণ ঝিমুতে থাকে, খেলাধুলা বা দৌড়াদৌড়ি বন্ধ করে দেয় এবং অস্বাভাবিক বেশি ঘুমায়।

লুকিয়ে থাকা: বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে বা অসুস্থ বোধ করলে বিড়াল সাধারণত অন্ধকার বা কোণঠাসা স্থানে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

শরীর পরিষ্কার না করা: সুস্থ বিড়াল স্বভাবগত ভাবে নিজই নিজের শরীর চেটে পরিস্কার করে যা Grooming) নামে পরিচিত। ঠান্ডা লাগলে বিড়াল শরীর পরিষ্কার করা বন্ধ করে দেয়।

উপরের সমস্যাগুলো যদি আপনার বিড়ালের মাঝে দেখা যায়, তাহলে বুঝবেন আপনার বিড়াল ঠান্ডায় আক্রান্ত।


বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে করণিয়: ঘরোয়া যত্ন ও থেরাপি

বিড়ালের ঠান্ডা বা সর্দি-কাশির কোনো সরাসরি ঘরোয়া টুটকা বা ওষুধ নেই। কিন্তু, কিছু ঘারোয়া যত্ন ও থেরাপির দ্বারা বিড়ালকে ঠান্ডা বা সর্দি-কাশির মত মারাত্বক রোগ হতে দ্রুত সুস্থ করে তোলা যায়। বিড়ালের শরীর মানুষের শরীরের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। আর সেজন্য মানুষের ঠান্ডা বা সর্দি-কাশির কোনো ওষুধ বা ভেষজ উপাদান বিড়ালকে খাওয়ানো ঠিক হবে না।

আপনার আদরের বিড়ালকে ঠান্ডা হতে মুক্তি দিতে এবং সর্দি-কাশি কমাতে ঘরে বসেই কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন:


১. বাষ্প বা স্টিম থেরাপি পদ্ধতি

বাথরুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে গরম পানির গিজার ছেড়ে দিন, যাতে বাথরুম বাষ্পে পরিপুর্ণ হয়ে যায়। সেই বাষ্পযুক্ত বাথরুমে আপনার বিড়ালকে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট বসে থাকুন। গরম বাষ্প বিড়ালের ফুসফুস ও শ্বাসনালীর শক্ত কফ এবং সর্দি নরম করে, ফলে তা বের হয়ে যায় এবং শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। দিনে ২-৩ বার এটি করতে পারেন।

বাষ্প বা স্টিম থেরাপি পদ্ধতি



২. স্যালাইন ড্রপ দিয়ে নাক পরিষ্কারপদ্ধতি

ফার্মেসি থেকে মানব শিশুদের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ স্যালাইন ড্রপ (0.9% NaCl) কিনে নিন। বিড়ালের প্রতি নাকের ছিদ্রে ১ ফোঁটা করে দিনে দুবার দিতে হবে। এটি বন্ধ নাক খুলে দিতে সাহায্য করে। কুসুম গরম পানিতে তুলা ভিজিয়ে বিড়ালের নাক ও চোখের চারপাশের শুকনো সর্দি আলতো করে মুছে পরিষ্কার রাখুন।

৩. খাবার ও পানির থেরাপিউষ্ণ ও তরল খাবার

সর্দি হলে বিড়ালের ঘ্রাণশক্তি কমে যায়, তাই তারা সাধারণ খাবার খেতে চায় না। বিড়ালকে হালকা গরম মুরগির মাংসের স্যুপ (লবণ, পেঁয়াজ ও রসুন ছাড়া) অথবা ভেজা খাবার (Wet Food) দিন। বিড়ালের শরীরে যেন পানির শূন্যতা না হয়, সেজন্য তরল খাবার বেশি দিন। প্রয়োজনে সিরিঞ্জ দিয়ে অল্প অল্প করে পানি খাওয়ান।

৪. ঘরোয়া পরিবেশ নিয়ন্ত্রণধোঁয়া ও সুগন্ধি বন্ধেআ

আপনি আপনার বিড়ালকে যে ঘরে রাখেন, সে ঘরে কয়েল, সিগারেট, পারফিউম, এয়ার ফ্রেশনার বা ঘর মোছার তীব্র ফিনাইল ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো বিড়ালের শ্বাসনালীতে অ্যালার্জি বাড়িয়ে দেয়। বিড়ালকে ফ্যানের নিচে বা এসির ঠান্ডা বাতাসে রাখবেন না। তাকে ঘরের একটি শুষ্ক ও উষ্ণ জায়গায় নরম কাপড়ের ওপর রাখুন। মানুষের সর্দি-কাশির কোনো ওষুধ, বিশেষ করে প্যারাসিটামল বা মানুষের কফ সিরাপ বিড়ালের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত এবং প্রাণঘাতী। এগুলো বিড়ালকে কখনোই দেবেন না।


পার্সিয়ান বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে করণীয় কি

পার্সিয়ান বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে করণীয়



দেশি বা পার্সিয়ান বিড়ালের ঠান্ডার চিকিত্সা পদ্ধতি প্রায় একই রকম। তবে পার্সিয়ান বিড়ালের নাক সাধারণ বিড়ালের নাকের চেয়ে চ্যাপ্টা হয় আর তাই এদের ঠান্ডা লাগলে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। সেকারণে এদের ঠান্ডা লাগলে বাড়তি যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। 

পার্সিয়ান বিড়ালের বা বাচ্চার ঠান্ডা লাগলে, প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো তাকে ঘরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে যেখানে উষ্ণতা একটু বেশি, এমন স্থানে নরম কম্বল দিয়ে ঝড়িয়ে রাখা এবং কোনো অবস্থাতেই মানুষের প্যারাসিটামল বা অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ানো যাবেনা। কারণ মানুষের ঔষধ বিড়ালের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত হতে পারে। 

পার্সিয়ান বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে, চ্যাপ্টা নাকের কারণে এবং ঘন পশমের কারণে চোখ ও নাকে দ্রুত তরল ও পুঁজ জমে ‍এবং তা শক্ত হয়ে যায়, সেজন্য দিনে কয়েকবার কুসুম-কুসুম গরম পানিতে তুলা বা কটন বার ভিজিয়ে আলতো করে চোখ-নাক পরিষ্কার করে দিতে হবে। 

এছাড়াও এদের বন্ধ শ্বাসনালী পরিস্কার করতে বাথরুমে গরম পানির বাষ্প তৈরি করতে হবে এবং সেখানে তাকে নিয়ে ১০-১৫ মিনিট বসে থাকবেন। সাবধান তাকে একা বথরুমে বন্ধ করে রাখবেন না।

ঠান্ডার লাগার জন্য নাক বন্ধ থাকায় পার্সিয়ান বিড়াল খাদ্যের গন্ধ পায় না এবং খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়। এটি তাদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেজন্য তীব্র সুগন্ধিযুক্ত ক্যান ফুড বা মশলাহীন হালকা চিকেন স্যুপ হালকা গরম করে খাওয়াতে হবে যেন সে পুষ্টি পায়।

যেহেতু বিড়ালের ঠান্ডা রোগটি ছোঁয়াচে, সেজন্য ঠান্ডায় আক্রান্ত পার্সিয়ান বাচ্চাটিকে বাড়ির অন্য পোষা প্রাণী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। যদি দেখেন পার্সিয়ান বিড়ালের চোখ-নাক দিয়ে ঘন হলদে বা সবুজ পুঁজ বের হচ্ছে এবং মুখ হাঁ করে শ্বাস নেয় বা শ্বাস কষ্ঠ হচ্ছে।

এছাড়াও চোখ পুরোপুরি লাল হয়ে ফুলে গেছে অথবা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় খাওয়া বন্ধ রাখছে, তবে আর দেরি না করে তাড়াতাড়ি একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তারের স্বরণাপন্ন হয়ে চোখের ড্রপ বা অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা করাতে হবে। 


বিড়ালের কাশি হলে করণীয়

 বিড়ালের কাশি হওয়া একটি সংবেদনশীল লক্ষণ। বিড়াল যখন কাশে, তখন সে সাধারণত গলা সামনের দিকে বাড়িয়ে, কুঁজো হয়ে বসে এবং এমনভাবে আওয়াজ করে যেন মনে হয় সে কিছু ওগলাবার (বমি করার) চেষ্টা করছে। এটি ঠান্ডা লাগা, ফুসফুসে কৃমি, অ্যালার্জি বা অ্যাজমার কারণে হতে পারে।বিড়ালের কাশি কমাতে আপনার করণীয় পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. বাষ্প বা স্টিম থেরাপি (সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া উপায়)বিড়ালের শ্বাসনালী ও গলার অস্বস্তি কমাতে বাষ্প সবচেয়ে দ্রুত কাজ করে।বাথরুমের দরজা-জানলা বন্ধ করে গরম জলের ঝরনা (Shower) বা গিজার ছেড়ে দিন, যাতে পুরো বাথরুম বাষ্পে (Steam) ভরে যায়।বিড়ালকে নিয়ে সেই বাষ্পময় বাথরুমে ১০ থেকে ১৫ মিনিট থাকুন।গরম বাষ্প তার শ্বাসনালীকে আর্দ্র করবে, কফ নরম করবে এবং কাশি দ্রুত কমিয়ে আনবে। এটি দিনে ২ বার করতে পারেন।

২. পরিবেশ থেকে উত্তেজক উপাদান দূর করাবিড়ালের শ্বাসনালী অত্যন্ত সংবেদনশীল। সামান্য ধোঁয়া বা সুগন্ধি তার কাশি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।বিড়ালের আশেপাশে সিগারেট, মশার কয়েল, পারফিউম, রুম ফ্রেশনার বা রান্নার তীব্র ধোঁয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখুন।ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় বিড়ালকে দূরে রাখুন, কারণ ধুলোবালি ফুসফুসে গিয়ে কাশি সৃষ্টি করে।কম ধুলো ওড়ে (Dust-free) এমন ক্যাট লিটার ব্যবহার করুন।

৩. খাবার ও জলের যত্নকাশি হলে বিড়ালের গলা শুকিয়ে চুলকায়। তাই তাকে সব সময় হালকা গরম জল পানের ব্যবস্থা করে দিন।শক্ত বা শুকনা খাবার (Dry food) গিলতে গেলে কাশির বেগ বাড়তে পারে। তাই এই সময়ে হালকা গরম ভেজা খাবার (Wet food) অথবা লবণ-মশলা ছাড়া মুরগির মাংস সেদ্ধ করা জল (চিকেন ব্রথ) দিন।

৪. কৃমির ওষুধ (Deworming) নিশ্চিত করাঅনেক সময় বিড়ালের পেটে বা ফুসফুসে কৃমি (Lungworms) হলে তীব্র কাশি হয়। আপনার বিড়ালকে নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। যদি দেড় বা দুই মাসের বেশি সময় ধরে কৃমির ওষুধ না দেওয়া হয়ে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে তা দিন।⚠️ অত্যন্ত জরুরি সতর্কতামানুষের কাশির সিরাপ বা ওষুধ ভুলেও খাওয়াবেন না: মানুষের কাশির ওষুধ বা প্যারাসিটামল বিড়ালের শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করে এবং এতে বিড়ালের মৃত্যু হতে পারে।


বিড়ালের নাক বন্ধ হলে করণীয়

বিড়ালের নাক বন্ধ হলে করণীয়

 বিড়ালের নাক বন্ধ হলে সে গন্ধ পায় না, ফলে খাওয়া-দাওয়া একদম বন্ধ করে দেয়। বিড়াল সাধারণত মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে অভ্যস্ত নয়, তাই নাক বন্ধ হওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।বিড়ালের বন্ধ নাক দ্রুত সচল করতে এবং তার আরামের জন্য আপনার করণীয় পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. বাষ্প বা স্টিম থেরাপি: নাক বন্ধের সমস্যা দূর করতে বাষ্প সবচেয়ে কার্যকর ঘরোয়া উপায়।আপনার বাথরুমের দরজা-জানলা ভালো করে বন্ধ করে গরম জলের ঝরনা বা গিজার চালু করুন।পুরো বাথরুমে যখন ঘন বাষ্প (Steam) জমবে, তখন বিড়ালকে নিয়ে সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বসে থাকুন। (খেয়াল রাখবেন, বিড়ালকে যেন সরাসরি গরম জলের নিচে দেওয়া না হয়)।গরম বাষ্প নাকের ভেতরের শুকনো শ্লেষ্মা বা কফ নরম করে দেবে, ফলে নাক খুলে যাবে এবং সে সহজে শ্বাস নিতে পারবে। এটি দিনে ২-৩ বার করতে পারেন।

২. নাক ও চোখের চারপাশ পরিষ্কার করা: নাক বন্ধ থাকলে প্রায়ই নাক ও চোখ দিয়ে তরল বা আঠালো পুঁজ বের হয়ে জমাট বেঁধে যায়।হালকা গরম জলে পরিষ্কার তুলা ভিজিয়ে আলতো হাতে বিড়ালের নাকের ছিদ্রের চারপাশ এবং চোখের কোণ মুছে দিন। এতে তার শ্বাসনালী পরিষ্কার হবে।

৩. তীব্র গন্ধযুক্ত ভেজা খাবার দেওয়া: নাক বন্ধ থাকার কারণে বিড়াল খাবারের গন্ধ পায় না, আর গন্ধ না পেলে বিড়াল খাবার ছোঁয়ও না।এই সময়ে তাকে সাধারণ শুকনা খাবার (Dry food) না দিয়ে তীব্র গন্ধযুক্ত হালকা গরম ভেজা খাবার (Wet food) অথবা টুনা মাছ দিন। খাবারের গন্ধ তীব্র হলে বন্ধ নাকেও সে কিছুটা গন্ধ পাবে এবং খেতে আগ্রহী হবে।খাবার খাওয়ার আগে বাষ্প থেরাপি দিলে নাক কিছুটা খোলে, ফলে তখন খাবার দিলে সে সহজে খেতে পারে।

৪. স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার: নাকের শুষ্কতা ও বন্ধ ভাব দূর করতে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিড়ালের জন্য নিরাপদ স্যালাইন ন্যাসাল ড্রপ (Saline Nasal Drops) ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশিত ড্রপ প্রতি নাকে ১ ফোঁটা করে দিলে নাক পরিষ্কার হয়ে যায়।তবে মানুষের জন্য ব্যবহৃত কোনো ড্রপ (যেমন: আফরিন বা ওট্রিভিন) বিড়ালকে দেওয়া যাবে

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পুরুষ মাছই সন্তানের জন্ম দেয়, স্ত্রী নয়! সমুদ্রের বিস্ময় - সি হর্স

  নতুনকে দেখা আর জানার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। আমার ইচ্ছা দুনিয়ার সমস্ত প্রাণী সম্পর্কে জানব। হোক সে দুনিয়ার উপরে বা মাটির নিচের অথবা পানির নিচের। সে স্বপ্ন নিয়েই আমার পথ চলা। সে ধারাবাহিকতাই আজ জানব অফুরন্ত বিস্ময়ের ভিড়ে সবচেয়ে অদ্ভুত আর নজরকাড়া এক প্রাণী সম্পর্কে যার নাম সি হর্স ( Sea Horse ) বা সমুদ্রঘোড়া । প্রাণীটিকে আমি প্রথম দেখি একটি ভিডিওতে, আমার মনেই হয়নি এটি কোনো মাছ । এর বিচিত্র গ ঠ ন ও অদ্ভুত লাইফস্টাইল যুগ যুগ ধরে আমার মত বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে । সি হর্স - নামকরণের ইতিহাস সি হর্সের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Hippocampus । শব্দটা শুনতে বেশ ভারী মনে হলেও এর উৎপত্তি কিন্তু দারুণ । প্রাচীন গ্রিক ভাষার দুটি শব্দ—‘ Hippos’ ( যার অর্থ ঘোড়া) এবং ‘ Kampos ’ ( যার অর্থ সমুদ্রের দানব) মিলেই তৈরি হয়েছে এই নাম । আসলে , এই মাছগুলোর মাথা , বাঁকানো ঘাড় আর মুখের সম্মুখভাগ দেখতে হুবহু ডাঙার তেজী ঘোড়ার মতো । প্রকৃতির এই অদ্ভুত মিলের কারণেই সাধারণ মানুষ ভালোবেসে এর নাম দিয়েছে ‘সমুদ্রঘোড়া’ । শুধু সাধারণ মানুষই নয় , প্রাচীন গ্রিক ও রোমান রূপকথাতেও এর রোমাঞ্চকর গল্প রয়েছে । পৌর...