সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গরুর ক্ষুরা রোগের কারণ, লক্ষণ ও ঘরোয়া প্রতিকার: খামারকে লোকসান থেকে বাঁচানোর সম্পূর্ণ গাইড

কবুতরের চোখে পানি আসলে করণীয় কি? কারণ, লক্ষণ ও সঠিক চিকিৎসা

কবুতরের চোখে পানি আসলে করণীয় কি?


কবুতর পালন আমাদের দেশে যেমন একটা দারুণ শখ, তেমনি এটি এখন বেশ লাভজনক একটি পেশা হয়ে উঠেছে। তবে কবুতর পালনের আনন্দ তখনই মাটি হয়ে যায়, যখন খামারিরা বা কবুতরের মালিক নানারকম রোগবালাইয়ের মুখোমুখি হন। এর মধ্যে সবচেয়ে চেনা অথচ মারাত্মক একটি সমস্যা হলো কবুতরের চোখ দিয়ে পানি পড়া বা চোখ ওঠা।

আমার ছোট ভাই একাট ছোট খামারের মালিক। তার কাছে প্রায় ৫০ – ৭০ টি কবুতরে আছে। প্রায়ই আমার সাথে কবুতরের চোখ উঠা ও পানি পড়া সমস্যা নিয়ে আলোচনা করত। তারপর আমি সমস্যাটি নিয়ে আমার পরিচিত একজন পশু ডাক্তারের সাথে আলোচনা করি ও অন-লাইনে দেশী-বিদেশী কয়েক জন লেখকের লেখা পড়ি।

আমি আমার বাস্তব অবিজ্ঞতার আলোকে দেখেছি, অনেকে শুরুতে এই সাধারণ বিষয়টাকে হেলাফেলা করলে রোগটি পুরো লফটে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে কবুতর অন্ধ পর্যন্ত হতে পারে, এমনকি পাখিটি মারাও যেতে পারে।

তাই কবুতরের চোখে পানি আসলে ঠিক কী করা উচিত—সে বিষয়ে প্রতিটি কবুতরপ্রেমী ও খামারির একদম পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। এই লেখায় আমি কবুতরের চোখে পানি আসলে করণীয় কি এবং এই সমস্যার আসল কারণ ও তার সঠিক সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করব।


কবুতরের চোখে দিয়ে পানি পড়ার কারণ

কবুতরের চোখ দিয়ে হুট করে পানি পড়ার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকে। না জেনে অনুমানের উপর ভিত্তি বা অন্যের ভুল কথা শুনে প্রিয় কবুতরকে মূত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়। হুটহাট চিকিৎসা শুরু না করে আগে জানতে হবে রোগটার আসল উৎস কী। প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ

কবুতরের চোখে পানি আসার পেছনে সবচেয়ে বড় দায়ী হলো ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন। বিশেষ করে 'ওয়ান আই কোল্ড' (One Eye Cold) বা ক্ল্যামাইডিয়া (Chlamydia) নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে কবুতরের এক চোখ বা দুই চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। এছাড়াও ক্ল্যামাইডিওফিলা সিটাসি (Chlamydophilla Psittaci) নামক একপ্রকার জীবাণুর কারণেও আপনার কবুতরের চোখে পানি আসার কারণ হতে পারে।

হুট করে ঠান্ডা লাগা

আবহাওয়া যখন হুট করে বদলায়—যেমন শীতের শুরুতে কিংবা বর্ষার স্যাঁতসেঁতে দিনে, কবুতরের ঠান্ডা লেগে চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। 

লফটের নোংরা পরিবেশ 

কবুতরের খাঁচা বা লফট যদি নিয়মিত পয়-পরিস্কার করা না হয়, তবে জমতে থাকা বিষ্ঠা থেকে ঝাঁঝালো অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাস কবুতরের চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এবং চোখ দিয়ে পানি ঝরায়।

ধোঁয়া ও ধুলাবালি

লফটের চারপাশে যদি অতিরিক্ত ধুলা ওড়ে কিংবা মশার কয়েলের ধোঁয়া ও তীব্র বাতাস সরাসরি কবুতরের চোখে লাগে, তবে চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে।

ভাইরাসজনিত রোগ 

অনেক সময় ভাইরাসজনিত রোগের কারণেও আপনার কবুতরের চোখ দিয়ে পানি আসতে পারে। বিশেষ করে আমরা পক্স বা বসন্তের কথা বলতে পারি। কবুতরের বসন্ত বা পক্স হলে চোখের কোণায় ছোট ছোট গুটি বা পক্সের দানা ওঠে। এর ফলেও চোখ লাল হয়ে অনবরত পানি পড়ে।


কবুতরের চোখ দিয়ে পানি আসলে করণীয় কি?

কবুতরের চোখে পানি দেখা মাত্রই হাত গুটিয়ে বসে না থেকে দ্রুত কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। নিচে ধাপে ধাপে করণীয়গুলো দেওয়া হলো:

আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত আলাদা করা

পানি পড়ার লক্ষণ দেখামাত্রই অসুস্থ কবুতরটিকে সুস্থ পাখিদের দল থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি খাঁচায় রাখুন। মনে রাখবেন, এই রোগটি ভীষণ ছোঁয়াচে। সময় মত আদালা না করলে তা অন্য কবুতরকে আক্রান্ত করবে। 

আক্রান্ত কবুতরকে দ্রুত আলাদা করা


চোখ জোড়া পরিষ্কার করা

হালকা কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন অথবা ফার্মেসি থেকে নরমাল স্যালাইন কিনে আনুন। এবার পরিষ্কার তুলা বা কটন বাড সেই পানিতে ভিজিয়ে আলতো হাতে কবুতরের চোখের চারপাশের ময়লা ও পানি মুছে দিন। প্রতিবার মোছার জন্য অবশ্যই নতুন তুলা ব্যবহার করবেন।

কবুতরের চোখে পানি পড়লে করণীয়


কার্যকর আই ড্রপ ব্যবহার

মানুষের চোখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ড্রপ কবুতরের জন্য জাদুর মতো কাজ করে। অভিজ্ঞ খামারি ও চিকিৎসকদের মতে, গেটিসন (Gatison) বা সিভোডেক্স (Civodex) আই ড্রপ আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা করে দিনে ৩ বার (সকাল, দুপুর ও রাত) দিতে হবে। এভাবে টানা ৩ থেকে ৫ দিন ড্রপটি ব্যবহার করুন। মানুষের চোখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ড্রপ বা ঔষধ পাখিদের বেলায় ব্যবহারের  আগে অবশ্যই একজন অবিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

মুখে খাওয়ার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক

অ্যান্টিক্ল্যামাইডিয়াল ঔষধ পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। উদাহণ: Pow. Mycostop বা Tylo vet বা Tylocem প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম ঔষধ বিশুদ্ধ খাবার পানির সাথে ৫ দিন খাওয়াতে হবে। সেই সাথে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। মাল্টিভিটামিন খাওয়াতে হবে।

যদি চোখের সমস্যার পাশাপাশি কবুতরের সর্দি-কাশি, হাঁচি বা ঝিমানোর লক্ষণ থাকে, তবে ড্রপের সাথে মুখে খাওয়ার ওষুধ দিতে হবে। ডক্সিসাইক্লিন (Doxy-cycline) বা টাইলোসিন (Tylo-sin) গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক পাউডার (যেমন: Doxy-A বা Tylo-Dox) ১ লিটার খাবার পানিতে ১ গ্রাম মিশিয়ে টানা ৩ থেকে ৫ দিন খাওয়াতে হবে। তবে ওষুধের সঠিক মাত্রার জন্য একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

সতর্কতা: ঔষধ খাওয়ানোর পূর্বে অবশ্যই অবিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ খাওয়াবেন না।


লফট জীবাণুমুক্ত করা 

অসুস্থ পাখিটিকে আলাদা করার পর পুরো লফটে ভালো কোনো জীবাণুনাশক স্প্রে করুন। কবুতরের খাবার ও পানির পাত্র ভালো করে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন।


কবুতরের চোখের পানি আসা সমস্যায় সতর্কতা

কবুতরের চোখের চিকিৎসা করার সময় খামারিদের কিছু বিষয়ে ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে:

ভুলভাল প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার বন্ধ করুন

অনেকেই না বুঝে কবুতরের চোখ ভালো করতে সরাসরি লেবুর রস, রসুনের রস বা চুন-পানি চোখের ভেতর দিয়ে দেন। এটি মারাত্মক একটি ভুল পদ্ধতি। লেবুর তীব্র অ্যাসিড বা রসুনের ঝাঁঝ কবুতরের চোখের ভেতরের নরম কর্নিয়া স্থায়ীভাবে পুড়িয়ে নষ্ট করে দিতে পারে।

জোর করে চোখ ঘষা যাবে না

তুলা বা কটন বাড দিয়ে চোখ পরিষ্কার করার সময় কোনোভাবেই জোর খাটিয়ে ঘষাঘষি করবেন না। এতে চোখের ভেতরের চামড়া কেটে রক্তপাত হতে পারে এবং ইনফেকশন আরও বেড়ে যাবে। 

অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স পুরো করা

ওষুধ দেওয়ার ১ বা ২ দিনের মধ্যে কবুতরের চোখ ভালো হয়ে গেলেও ভুলেও অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স (কমপক্ষে ৩ দিন) মাঝপথে বন্ধ করবেন না। কোর্স সম্পূর্ণ না করলে জীবাণুগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে আবার আক্রমণ করবে।

সরাসরি হাওয়া থেকে বাঁচানো

লফটের ভেতর যেন সরাসরি ঠান্ডা বাতাস বা ঝড়ো হাওয়া ঢুকতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে রাতের বেলা চট, মোটা কাপড় বা পর্দা দিয়ে লফটের খোলা বাতাস আসার পথগুলো ঢেকে দিন।


প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন: কবুতরের চোখে পানি আসলে কি মানুষের ড্রপ দেওয়া নিরাপদ?

উত্তর: হ্যাঁ, কবুতরের চোখ ওঠার চিকিৎসায় মানুষের ব্যবহারের আই ড্রপ খুবই ভালো কাজ করে। বিশেষ করে গেটিসন (Gatison) বা সিভোডেক্স (Civodex) ড্রপ কবুতরের চোখের পানি পড়া এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্রুত সারিয়ে তোলে। তবে ব্যবহারের আগে ড্রপের মেয়াদের তারিখ অবশ্যই দেখে নেবেন। এবং একজন ভাল পশু-ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিবেন।


প্রশ্ন: কবুতরের চোখ পরিষ্কার করতে সাধারণ পানি ব্যবহার করা যাবে কি?

উত্তর: সাধারণ ঠান্ডা পানির চেয়ে হালকা কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে নেওয়া কিংবা ফার্মেসির নরমাল স্যালাইন (Normal Saline) ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। এটি চোখের জীবাণু মরে যেতে সাহায্য করে এবং পাখির চোখে কোনো বাড়তি জ্বালাপোড়া তৈরি করে না।


প্রশ্ন: রসুন বা লেবুর রস কি কবুতরের চোখে দেওয়া ঠিক?

উত্তর: একদমই না! অনেকেই না বুঝে কবুতরের চোখে সরাসরি লেবুর রস বা রসুনের রস চিপে দেন, যা কবুতরের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং বিপজ্জনক। লেবুর তীব্র সাইট্রিক অ্যাসিড বা রসুনের ঝাঁঝালো রস কবুতরের চোখের নরম কর্নিয়া স্থায়ীভাবে পুড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে শখের কবুতরটি চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।


প্রশ্ন: লফটের অ্যামোনিয়া গ্যাস কীভাবে কবুতরের চোখের ক্ষতি করে?

উত্তর: কবুতরের বিষ্ঠা দীর্ঘদিন জমা থাকলে সেখান থেকে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়। লফটে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝাঁঝালো গ্যাস কবুতরের চোখে প্রতিনিয়ত জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে, যার ফলে চোখ লাল হয়ে অনবরত পানি পড়তে থাকে।


প্রশ্ন: কবুতরের চোখের এই রোগ কি অন্যান্য কবুতরে ছড়ায়?

উত্তর: হ্যাঁ, কবুতরের চোখ দিয়ে পানি পড়া বা ওয়ান আই কোল্ড (One Eye Cold) একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত কবুতরের সংস্পর্শে আসলে, একই পাত্রে পানি বা খাবার খেলে খুব দ্রুত লফটের অন্যান্য সুস্থ কবুতরও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই রোগ দেখার সাথে সাথেই আক্রান্ত কবুতরকে আলাদা করা বাধ্যতামূলক।


শেষ কথা

সবশেষে বলা যায়, কবুতরের চোখ দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টিকে কোনোভাবেই হালকা বা সাধারণ সমস্যা হিসেবে নেওয়া যাবে না। কারণ, এটি বড় কোনো রোগ বা মহামারির আগাম লক্ষণ হতে পারে। তাই কবুতরের চোখে পানি আসলে করণীয় পদক্ষেপগুলো যদি আপনি প্রথম দিকেই এবং সঠিক নিয়মে নিতে পারেন, তবে খুব সহজেই আপনার শখের পাখিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

কবুতরের চোখ ওঠা রোগ


শুধু চিকিৎসার ভরসায় বসে না থেকে নিয়মিত লফট সাফ-সুতরো রাখা, পুষ্টিকর ও পরিষ্কার খাবার দেওয়া এবং পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য মাঝে মাঝে ভিটামিন ও মাল্টিভিটামিনের কোর্স করানো উচিত। এতে কবুতর এই ধরণের ঝুটঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবে। আপনার শখের কবুতরগুলো সবসময় ডানা ঝাপটে সুস্থ-সবল থাকুক, এটাই কামনা।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি শুধুমাত্র কবুতর মালেকদের সচেতন করার জন্য। চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকল্প নয়। রোগ জঠিল হলে অবশ্যই একজন ভাল চিকিৎসকের সরণাপর্ণ হবেন।

তথ্যসূত্র: petmd,foyspetsupplies, 
বই: পশুপাখির সাধারণ রোগ: চিকিৎসা ও প্রতিরোধ -লেখক: কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পুরুষ মাছই সন্তানের জন্ম দেয়, স্ত্রী নয়! সমুদ্রের বিস্ময় - সি হর্স

  নতুনকে দেখা আর জানার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। আমার ইচ্ছা দুনিয়ার সমস্ত প্রাণী সম্পর্কে জানব। হোক সে দুনিয়ার উপরে বা মাটির নিচের অথবা পানির নিচের। সে স্বপ্ন নিয়েই আমার পথ চলা। সে ধারাবাহিকতাই আজ জানব অফুরন্ত বিস্ময়ের ভিড়ে সবচেয়ে অদ্ভুত আর নজরকাড়া এক প্রাণী সম্পর্কে যার নাম সি হর্স ( Sea Horse ) বা সমুদ্রঘোড়া । প্রাণীটিকে আমি প্রথম দেখি একটি ভিডিওতে, আমার মনেই হয়নি এটি কোনো মাছ । এর বিচিত্র গ ঠ ন ও অদ্ভুত লাইফস্টাইল যুগ যুগ ধরে আমার মত বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে । সি হর্স - নামকরণের ইতিহাস সি হর্সের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Hippocampus । শব্দটা শুনতে বেশ ভারী মনে হলেও এর উৎপত্তি কিন্তু দারুণ । প্রাচীন গ্রিক ভাষার দুটি শব্দ—‘ Hippos’ ( যার অর্থ ঘোড়া) এবং ‘ Kampos ’ ( যার অর্থ সমুদ্রের দানব) মিলেই তৈরি হয়েছে এই নাম । আসলে , এই মাছগুলোর মাথা , বাঁকানো ঘাড় আর মুখের সম্মুখভাগ দেখতে হুবহু ডাঙার তেজী ঘোড়ার মতো । প্রকৃতির এই অদ্ভুত মিলের কারণেই সাধারণ মানুষ ভালোবেসে এর নাম দিয়েছে ‘সমুদ্রঘোড়া’ । শুধু সাধারণ মানুষই নয় , প্রাচীন গ্রিক ও রোমান রূপকথাতেও এর রোমাঞ্চকর গল্প রয়েছে । পৌর...