সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গরুর ক্ষুরা রোগের কারণ, লক্ষণ ও ঘরোয়া প্রতিকার: খামারকে লোকসান থেকে বাঁচানোর সম্পূর্ণ গাইড

ঘরে দেশি বিড়াল পুষছেন? জেনে নিন দেশি বিড়াল পালনের নিয়ম ও সঠিক যত্ন

দেশি বিড়াল পালনের নিয়ম


রাস্তার পাশে বা ঝুপে-ঝাড়ে অবহেলায় পড়ে থাকা কোনো ক্ষুধার্ত দেশি বিড়ালের বাচ্চাকে বা বিড়ালবে ঘরে নিয়ে এসে, আশ্রয় দেওয়ার মাঝে যে পরম আনন্দ, তা অন্য কোথাও মিলবে না। একটুখানি ভালোবাসা এবং আদর-যত্ন পেলে, এই অবহেলিত দেশি বিড়ালগুলোই হয়ে উঠতে পারে আমাদের পরিবারের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং আদরের সদস্য। অনেক মানুষ শখ করে দেশি বিড়াল ঘরে আনেন, কিন্তু সঠিক লালন-পালন পদ্ধতি নাজানার কারণে কিছুদিন পরই বিপাকে পড়ে যায়। আপনার আদরের লোমশ বিড়ালটির জীবন যেন সুন্দর ও নিরাপদ হয়, সেই জন্যেই আজকে আমরা দেশি বিড়াল পালনের নিয়মগুলো এ টু জেড (A-Z) সহজ ভাষায় আলোচনা করব।


দেশি বিড়াল পালনের গুরুত্ব

বিড়াল কেবল একটি মিষ্টি ও চঞ্চল প্রাণীই নয়, একে ঘরে লালন-পালনের পেছনে গভীর ধর্মীয় কারণ এবং কিছু সামাজিক কারণও রয়েছে। যুগ যুগ ধরে আমাদের সমাজে বিড়ালের উপস্থিতি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা গেছে।


ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ: আমাদের ইসলাম ধর্মে বিড়ালকে একটি পবিত্র ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিড়াল অত্যন্ত পছন্দ করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর নামের অর্থই হলো ‘বিড়ালের পিতা’, কারণ তিনি সবসময় বিড়াল সাথে রাখতেন এবং এদের খু্ব ভালবাসতেন। ইসলামে বিড়ালকে কষ্ট দেওয়া বা খাঁচায় আটকে রেখে না খাইয়ে মারাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর জন্য পরকালে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে, এই নিরীহ প্রাণীর প্রতি দয়া দেখালে সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়া বিড়ালের এঁটো করা খাবার বা পানি পবিত্র, যা এর পরিচ্ছন্নতারই প্রমাণ দেয়।


সামাজিক দৃষ্টিকোণ:সামাজিকভাবে একটি দেশি বিড়াল আপনার ঘরের সেরা প্রহরী হিসেবে কাজ করতে পারে। এরা খুব ভালো শিকারি হওয়ায় ঘর থেকে ইঁদুর, তেলাপোকা ও ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব একদম দূর করে দেয়। এছাড়া বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে একাকীত্ব ও মানসিক চাপ (Stress) দূর করতে বিড়ালের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের সাথে সময় কাটালে মানুষের মন ভালো থাকে ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। সমাজ থেকে হিংস্রতা দূর করতে এবং ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে দয়া, মায়া ও দায়িত্বশীলতা শেখাতে পরিবারে একটি বিড়াল পালন দারুণ ভূমিকা রাখে।


দেশি বিড়াল পালনের পূর্ব পস্তুতি

দেশি বিড়াল পালনের পূর্ব পস্তুতি
দেশি বিড়াল পালনের পূর্বপস্তুতি


একটি বিড়াল ঘরে আনার আগে কিছু পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হঠাৎ করে একটি প্রাণীকে ঘরে নিয়ে আসলে সে নতুন পরিবেশ দেখে ভয় পেতে পারে, আবার আপনারও দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হতে পারে। তাই বিড়ালটিকে ঘরে স্বাগত জানানোর আগে নিচের প্রস্তুতিগুলো সেরে রাখুন:

মানসিক ও আর্থিক প্রস্তুতি: বিড়াল একটি জীবন্ত প্রাণী। তাকে নিয়মিত খাবার দেওয়া, অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং প্রতিদিন সময় দেওয়ার মতো মান-মানসিকতা থাকতে হবে। এছাড়া খাবার, লিটার ও চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট খরচের মানসিক প্রস্তুতি রাখুন।


বিড়ালের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা: বিড়াল আসার আগেই তার জন্য একটি খাবারের বাটি, পানির বাটি, একটি লিটার বক্স (পটি করার জন্য) এবং ভালো মানের ক্যাট লিটার (বালু) কিনে রাখুন।

ঘর নিরাপদ করা (Cat-proofing): বিড়াল খুব চঞ্চল ও কৌতূহলী হয়। তাই ঘরের বেলকনি বা জানালা নেট দিয়ে আটকে দিন যাতে বিড়াল পড়ে না যায়। ঘরের খোলা বৈদ্যুতিক তার, বিষাক্ত গাছপালা (যেমন: লিলি ফুল) এবং ইঁদুর মারার বিষ বা ফিনাইল বিড়ালের নাগালের বাইরে রাখুন।

আলাদা একটি নিরাপদ কোণ তৈরি: নতুন পরিবেশে এসে বিড়াল প্রথমে ভয় পেয়ে খাটের নিচে বা আলমারির চিপায় লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই ঘরের একটি শান্ত কোণায় তার বিছানা, খাবার ও লিটার বক্স রেখে তাকে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন।

পশু চিকিৎসকের খোঁজ রাখা: আপনার বাসার আসেপাশে কোনো ভালো ভেটেরিনারি ক্লিনিক বা অভিজ্ঞ ক্যাট ডক্টর আছেন কি না, তা আগেই জেনে রাখুন। ঘরে আনার পরপরই তাকে একবার ডাক্তার দেখিয়ে কৃমির ওষুধ বা ভ্যাকসিনের পরামর্শ নেওয়া ভালো।


বাসস্থান ও শৌচাগার

বিড়াল অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং স্বাধীনচেতা প্রাণী। তাই ঘরে তার থাকার জায়গা এবং মলমূত্র ত্যাগের সঠিক ব্যবস্থা বা শৌচাগার নিশ্চিত করা দেশি বিড়াল পালনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


১. বাসস্থান বা থাকার জায়গা

বিদেশি বিড়ালের মতো দেশি বিড়ালের জন্য দামি বিছানার প্রয়োজন হয় না। ঘরের যেকোনো একটি শান্ত ও নিরাপদ কোণেই এরা শান্তিতে থাকতে পারে।

আরামদায়ক বিছানা: একটি নরম সুতি কাপড়, একটি কাগজের কার্টন বা ঝুড়িতে বিছিয়ে দিলেই সেটি দেশি বিড়ালের প্রিয় বিছানা হয়ে উঠবে। গ্রামে বেশির ভাগ বাড়িতে দেশি বিড়াল পালনের জন্য আলাদা বিছানার প্রয়োজন হয় না।

উঁচু জায়গা পছন্দ: বিড়াল একটু উঁচুতে বসতে ভালোবাসে। তাই ঘরের আলমারি বা জানালার পাশে এমন ব্যবস্থা রাখুন যেন সে বসে বাইরের পরিবেশ দেখতে পারে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: শীতকালে বিড়ালের বিছানায় একটু বাড়তি গরম কাপড় দিতে হবে এবং গরমকালে ফ্যানের নিচে বা ঠাণ্ডা মেঝেতে তাকে ঘুমাতে দিতে হবে।


২. শৌচাগার বা লিটার বক্সের ব্যবস্থা

বিড়ালকে ঘরে এনেই প্রথম যে কাজটি শেখাতে হয়, তা হলো নির্দিষ্ট স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করা।

লিটার বক্স ও বালু: একটি প্লাস্টিকের গামলা বা ক্যাট লিটার বক্সে বিড়ালের পটি করার বালু (Cat Litter) ভরে রাখুন। দেশি বিড়ালকে খুব সহজেই এই বক্সে পটি করা শেখাতে পারবেন।

সঠিক স্থান নির্বাচন: লিটার বক্সটি সবসময় ঘরের এমন এক কোণে রাখুন যেখানে মানুষের যাতায়াত কম এবং কোলাহল নেই। বিড়াল সাধারণত আড়ালে শৌচকার্য সারতে পছন্দ করে।

নিয়মিত পরিষ্কার করা: বিড়াল নোংরা জায়গায় একদম পটি করতে চায় না। তাই প্রতিদিন অন্তত দুইবার লিটার বক্সের ময়লা পরিষ্কার করুন এবং সপ্তাহে একবার পুরো বালু বদলে বক্সটি ধুয়ে নিন। পরিষ্কার শৌচাগার থাকলে বিড়াল কখনোই ঘরের অন্য কোথাও মলমূত্র ত্যাগ করবে না।


খাবার ও পানাহার

দেশি বিড়াল পালনের নিয়ম খুব সহজ। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এরা খাবারের ব্যাপারে খুব একটা যিদ ধরে না। তবে দেশি বিড়ালকে সুস্থ ও চঞ্চল রাখার জন্য তাদের সঠিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া প্রয়োজন। অনেকেই নাজেনে বিড়ালকে মানুষের সব খাবার খাইয়ে থাকেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কারণ হতে পারে।

১. প্রতিদিনের খাবার তালিকা

বিড়াল মূলত মাছ, মাংস খেতে পছন্দ করে। সেজন্য এদের প্রধান খাবার হতে হওয়া উচিত প্রোটিন সমৃদ্ধ।

ঘরের তৈরি খাবার: দেশি বিড়ালের জন্য সবচেয়ে উত্তম খাবার হলো তেল-মসলা ও লবণ ছাড়া সেদ্ধ করা মাছ, মুরগির মাংস বা কলিজা। প্রথমে মাংস সেদ্ধ করবে, পর তার সাথে সামান্য ভাত চটকে মিশিয়ে দিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন ভাতের পরিমাণ যেন খুব কম হয়।

রেডিমেড ক্যাট ফুড(Ready Cat Food): আপনার যদি সময় কম থাকে বা আপনি যদি খুব ব্যস্ত থাকেন, তাহলে আপনি বাজার থেকে ড্রাই ফুড (Dry Food) বা ওয়েট ফুড (Wet Food) কিনে খাওয়াতে পারেন। তবে মনে রাখবেন সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের খাবারর্ খাওয়ানো উচিত এবং প্যাকেটের নিয়ম অনুযায়ী সঠিব পরিমাণে খাওয়ানো ভালো। তা-নাহলে বিড়াল অসুস্থ হয়ে পড়বে।

২. পানাহার বা পানির গুরুত্ব

পর্যাপ্ত ফ্রেশ পানি: বিড়ালের কিডনি সুস্থ রাখতে প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন। ঘরের ২/৩ টি জায়গায় পরিষ্কার ও সাধারণ তাপমাত্রার পানি বাটিতে রেখে দিন, যেন বিড়াল যখন খুশি খেতে পারে। বিড়াল বাসি পানি পছন্দ করে না, তাই প্রতিদিন অন্তত দুইবার বাটির পানি বদলে দিন।

দুধ খাওয়ানোর ভুল ধারণা: কার্টুন বা সিনেমা দেখে আমরা অনেকেই ভাবি বিড়ালের প্রিয় খাবার দুধ। কিন্তু সত্যি হলো, অধিকাংশ বিড়ালই 'ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট' (Lactose Intolerant)। অর্থাৎ গরুর দুধ খেলে তাদের হজমে সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক বা ডায়রিয়া হতে পারে। তাই বিড়ালকে গরুর দুধ না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


৩. যে খাবারগুলো কখনোই দেবেন না (বিষাক্ত খাবার)

পেঁয়াজ, রসুন, চকোলেট, চা-কফি, আঙুর, কিসমিস এবং কাঁচা মাছ-মাংস বিড়ালের শরীরের জন্য বিষাক্ত। এছাড়া যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত লবণাক্ত ও মিষ্টি খাবার বিড়ালকে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।


স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

দেশি বিড়ালের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বিদেশি বিড়ালের চেয়ে অনেক বেশি হলেও, অবহেলা করলে এরাও মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তাই আপনার আদরের বিড়ালটিকে সুস্থ রাখতে এবং তার আয়ু বাড়াতে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।


১. কৃমিমুক্তকরণ (Deworming)

বিড়ালের পেটে কৃমি হলে তার শরীরের পুষ্টি কমে যায়, লোম ঝরতে থাকে এবং পেট ফুলে যায়। বিড়ালের বয়স ১ মাস পার হলেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওজনের মাপে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। সাধারণত প্রতি ৩ মাস পর পর বিড়ালকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হয়।


২. ভ্যাকসিন বা টিকাদান

বিড়ালকে বিভিন্ন প্রাণঘাতী ভাইরাস (যেমন: প্যানলিউকোপেনিয়া, ক্যালিসিভাইরাস, রাইনোট্রাকিয়াইটিস এবং র্যাবিস বা জলাতঙ্ক) থেকে বাঁচাতে সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন দেওয়া জরুরি।

প্রাথমিক ভ্যাকসিন: বিড়ালের বয়স ২ থেকে আড়াই মাস হলে প্রথম ভ্যাকসিন (Core Vaccine) দিতে হয় এবং এর ১ মাস পর বুস্টার ডোজ দিতে হয়।

জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন: ৩ থেকে ৪ মাস বয়সে র্যাবিস (Rabies) ভ্যাকসিন দিতে হয়।

বার্ষিক ডোজ: এরপর প্রতি বছর নিয়ম করে এই ভ্যাকসিনগুলোর একটি করে ডোজ (Annual Shot) দিতে হয়।


৩. নিউটারিং বা স্পেয়িং (বন্ধ্যাত্বকরণ)

বিড়ালের বয়স ৫-৬ মাস হলে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং 'হিট'-এ আসে। এই সময়ে বিড়াল খুব ডাকাডাকি করে, বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং ঘরের কোণায় কোণায় প্রস্রাব করে। বিড়ালকে শান্ত রাখতে, অনাকাঙ্ক্ষিত বাচ্চা রোধ করতে এবং জরায়ু বা প্রস্টেট ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে সঠিক বয়সে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা অস্ত্রোপচার (Neutering/Spaying) করিয়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও মানবিক সিদ্ধান্ত।


৪. অসুস্থতার লক্ষণসমূহ

যদি দেখেন আপনার বিড়াল খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, সারাদিন এক কোণে ঝিম মেরে বসে আছে, অনবরত বমি বা পাতলা পায়খানা করছে, কিংবা নাক-চোখ দিয়ে পানি ঝরছে—তবে দেরি না করে দ্রুত ভেটেরিনারি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। মনে রাখবেন, বিড়ালের অসুখ লুকিয়ে রাখার প্রবণতা থাকে, তাই একটু অস্বাভাবিক আচরণ দেখলেই সতর্ক হতে হবে।



লিটার বক্স প্রশিক্ষণ

লিটার বক্স প্রশিক্ষণ
দেশি বিড়াল পালনের লিটার বক্স


অনেকেই ভাবেন বিড়ালকে পটি ট্রেনিং দেওয়া বোধহয় খুব কঠিন কাজ। কিন্তু সত্যি হলো, বিড়াল স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন প্রাণী এবং এরা মাটি বা বালুতে মলমূত্র ঢেকে রাখতে পছন্দ করে। তাই সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে মাত্র কয়েক দিনেই একটি দেশি বিড়ালকে লিটার বক্স ব্যবহার করা শেখানো সম্ভব।


১. সঠিক সময়ে শুরু করা

বিড়ালের বাচ্চার বয়স ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ হলেই তাকে লিটার বক্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত। বড় বিড়াল হলেও ঘরে আনার প্রথম দিন থেকেই এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে হবে।

২. গন্ধের মাধ্যমে চেনাানো

বিড়াল নতুন ঘরে আসার পর যদি ভুলেও অন্য কোথাও প্রস্রাব বা পায়খানা করে ফেলে, তবে সেটি টিস্যু দিয়ে মুছে লিটার বক্সের বালুর নিচে রেখে দিন। এরপর বিড়ালকে বক্সের কাছে এনে বালুটা একটু দেখিয়ে দিন। নিজের মলমূত্রের গন্ধ পেয়ে বিড়াল খুব সহজেই বুঝে নেবে যে এটিই তার শৌচাগার।

৩. সঠিক সময়ে বক্সে রাখা

বিড়াল সাধারণত ঘুম থেকে ওঠার পর, খেলাধুলার শেষে এবং খাবার খাওয়ার ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করে। এই নির্দিষ্ট সময়গুলোতে বিড়ালকে আলতো করে তুলে লিটার বক্সের ভেতর বসিয়ে দিন। সে যদি বালু আঁচড়াতে শুরু করে, তবে বুঝবেন সে বিষয়টি বুঝতে পারছে।

৪. পুরস্কার এবং উৎসাহ দেওয়া

যখনই বিড়ালটি সফলভাবে লিটার বক্সে পটি করবে, তাকে আদর করে দিন বা তার প্রিয় কোনো খাবার (Treat) খেতে দিন। এতে সে বুঝবে এখানে পটি করলে পুরস্কার পাওয়া যায়।

৫. বকাঝকা না করা

শুরুর দিকে দু-একবার বিড়াল ঘরের অন্য কোথাও নোংরা করতে পারে। ভুল করার জন্য তাকে কখনোই মারধর বা বকাঝকা করবেন না। এতে বিড়াল ভয় পেয়ে যাবে এবং প্রশিক্ষণ আরও কঠিন হবে। যেখানে ভুল করে নোংরা করেছে, সেই জায়গাটি ভিনেগার বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করুন যেন সেখানে কোনো গন্ধ না থাকে।

বিড়াল পালতে গিয়ে অসাবধানতার কারণে আপনারও রোগ হতে পারে বা আপনিও অসুস্থ হতে পারেন, তাই বিড়াল হতে মানুষের কি কি রোগ ছড়ায়, তা এই অনুচ্ছেদটি পড়লে যানতে পারবেন: বিড়াল হতে মানুষের কি কি রোগ হয়


বিড়ালের গ্রুমিং সেশন

বিড়ালের গ্রুমিং (Cat Grooming) হলো বিড়ালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুস্থ এবং রোগমুক্ত রাখার সামগ্রিক পরিচর্যা পদ্ধতি। বিড়াল সাধারণত জিহ্বা দিয়ে চেটে নিজের শরীর নিজেই পরিষ্কার বা সেলফ-গ্রুমিং (Self-grooming) করে। তবে দীর্ঘ লোমের বিড়াল বা ঘরের পোষা বিড়ালের পশম জটমুক্ত রাখতে এবং তাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে মানুষের দেওয়া বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়।বিড়ালের গ্রুমিংয়ের মূলত ৫টি অংশ:


পশম ব্রাশ করা (Brushing): নিয়মিত ব্রাশ করলে মরা পশম ও ময়লা দূর হয়, লোমে জট ধরে না এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

নখ কাটা (Nail Trimming): বিড়ালের নখ অতিরিক্ত বড় হলে হাঁটতে সমস্যা হয়। তাই বিশেষ ট্রিমার দিয়ে নিয়মিত নখ কাটা উচিত।

কান পরিষ্কার করা (Ear Cleaning): কানের ভেতর জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করলে কানের ইনফেকশন ও উকুন বা মাইটসের আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।

দাঁতের যত্ন (Dental Care): বিড়ালের দাঁত ব্রাশ করা বা ডেন্টাল ট্রিট দেওয়া গ্রুমিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গোসল করানো (Bathing): বিড়াল নিয়মিত গোসল না করলেও চলে, তবে পশম অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা নোংরা হলে বিড়ালের জন্য তৈরি বিশেষ শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হয়।


গ্রুমিং করার উপকারিতা

চর্মরোগ প্রতিরোধ: পশম জটমুক্ত ও পরিষ্কার থাকলে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয় না।

হেয়ারবল (Hairball) হ্রাস: বিড়াল শরীর চাটার সময় মরা পশম গিলে ফেলে, যা পরে পেটে দলা পাকিয়ে হেয়ারবল তৈরি করে। নিয়মিত ব্রাশ করলে এই সমস্যা কমে।

শারীরিক পরীক্ষা: গ্রুমিং করার সময় বিড়ালের শরীরে কোনো ক্ষত, ফোলা ভাব বা পরজীবী (যেমন: মাছি, টিকটিক) আছে কি না তা সহজেই সনাক্ত করা যায়।

সম্পর্ক মজবুত হওয়া: নিয়মিত যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে পোষা বিড়ালের সাথে মালিকের মানসিক বন্ডিং বা সম্পর্ক অনেক দৃঢ় হয়।


ঘরে বসে গ্রুমিং করার পাশাপাশি বর্তমানে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে পেশাদার পেট বিউটি পার্লার বা গ্রুমিং সেন্টার রয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ গ্রুমারদের মাধ্যমে বিড়ালের চুল ছাঁটা (Hair cut), স্পা ও উন্নত গ্রুমিং সেবা নেওয়া যায়।


ওজন নিয়ন্ত্রণ

বিড়ালের ওজন নিয়ন্ত্রণ
দেশি বিড়ালের ওজন নিয়ন্ত্রণ


আমাদের অনেকেরই ধারণা, গোলগাল বা অতিরিক্ত মোটা বিড়াল দেখতে বেশি কিউট লাগে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, বিড়ালের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা (Obesity) তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। বিশেষ করে অলস জীবনযাপন এবং অস্ত্রোপচার বা নিউটারিং করার পর দেশি বিড়ালদের ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে। বিড়ালের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন:


পরিমিত খাবার দেওয়া: বিড়ালের বাটি সবসময় খাবারে পূর্ণ করে রাখবেন না। এতে তারা ক্ষুধার্ত না থাকলেও বারবার খেতে থাকে। বয়স এবং ওজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাপে দিনে ২ থেকে ৩ বার খাবার দেওয়ার অভ্যাস করুন।

সঠিক খাবার নির্বাচন: খাবারে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট বা ভাতের পরিমাণ কমিয়ে দিন। প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বেশি দিন। কম দামী বা নিম্নমানের ক্যাট ফুডে অতিরিক্ত চর্বি থাকে, যা ওজন বাড়ায়। তাই ভালো ব্র্যান্ডের ড্রাই ফুড বা ঘরে তৈরি সেদ্ধ মাংস দিন।

শারীরিক কসরত ও খেলাধুলা: বিড়ালের ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাকে দিয়ে পরিশ্রম করানো। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিড়ালের সাথে লেজার লাইট, সুতো বা খেলনা ইঁদুর দিয়ে খেলুন। এতে তাদের শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি পুড়বে এবং মনও প্রফুল্ল থাকবে।

নিয়মিত ওজন মাপা: প্রতি মাসে অন্তত একবার বিড়ালের ওজন মেপে একটি ডায়েরিতে নোট করে রাখুন। যদি দেখেন ওজন হঠাৎ অনেক বেড়ে যাচ্ছে, তবে খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিন।

চিকিৎসকের পরামর্শ: অতিরিক্ত ওজনের কারণে বিড়ালের ডায়াবেটিস, লিভারের সমস্যা এবং বাতের ব্যথা (Arthritis) হতে পারে। কোনোভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট চার্ট তৈরি করে নিন।


উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের চারপাশের চঞ্চল ও অবহেলিত দেশি বিড়ালগুলো একটু সঠিক যত্ন আর ভালোবাসা পেলে যেকোনো বিদেশি বিড়ালের চেয়েও বেশি অনুগত এবং আদরের সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে। দেশি বিড়াল পালনের নিয়মগুলো মোটেও কঠিন কিছু নয়—প্রয়োজন কেবল একটু সচেতনতা, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধ। সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার শৌচাগার এবং নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে আপনার লোমশ বন্ধুটি বছরের পর বছর সুস্থ ও আনন্দিত থাকবে। একটি নিরীহ প্রাণীকে আশ্রয় দিয়ে আপনার ঘরকে যেমন ইঁদুর ও পোকামাকড় মুক্ত রাখতে পারেন, তেমনি আপনার একাকীত্ব দূর করে জীবনে মানসিক শান্তিও ফিরিয়ে আনতে পারেন। তাই আজই কোনো অবহেলিত দেশি বিড়ালকে ভালোবেসে ঘরে তুলে নিন এবং আপনার জীবনকে আরও আনন্দময় করে তুলুন।

মৌসুমী পরিবর্তন বা নানা কারণে মানুষের মত বিড়ালেরও ঠান্ডা, সর্দি, কাশি হতে পারে। বিড়ালের ঠান্ডা লাগলে করনিয় সম্পর্কে যানতে নিচের অনুচ্ছেদটি পড়তে পারেন:

নোট: এই অনুচ্ছেদে ব্যবহিত ছবিগুলো মডিফাই করা

বি: দ্র: এই অনুচ্ছেদটি শুধু বিড়াল মালিকদের সচেতন করা উদ্দেশে লেখা হয়েছে। আপনার বিড়াল অসুস্থ হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন অবিজ্ঞ ডাক্তারের স্বরণাপূর্ণ হন। 


সাধারণ প্রশ্নাবলী (FAQ)


দেশি বিড়াল পালন বিষয়ক কিছু প্রশ্ন ‍ও উত্তর  নিচে দেওয়া হলো

১. প্রশ্ন: দেশি বিড়ালকে কি প্রতিদিন গোসল করাতে হয়?

উত্তর: না, দেশি বিড়ালকে প্রতিদিন গোসল করানোর দরকার নেই। বিড়াল নিজেই নিজের জিহ্বা দিয়ে শরীর চেটে পরিষ্কার রাখতে পারে। গ্রীস্মকালে মাসে ১ বার এবং শীতকালে ২-৩ মাস পর পর অথবা অতিরিক্ত নোংরা হলে বিড়ালকে কুসুম-কুসুম গরম পানি ও ক্যাট শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হবে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন কানে পানি না ডুকে।

২. প্রশ্ন: দেশি বিড়ালকে কি গরুর দুধ খাওয়ানো যাবে?

উত্তর: না, বেশির ভাগ দেশি বিড়ালই 'ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট' হয়। গরুর দুধ খেতে দিলে তাদের হজমে সমস্যা হতে পারে এবং সেই সাথে গ্যাস্ট্রিক, বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে। এর বদলে পরিষ্কার সাধারণ বিশুদ্ব পানি দিন।

৩. প্রশ্ন: দেশি বিড়ালের বাচ্চার প্রধান খাবার কী?

উত্তর: বিড়াল জন্মের ১ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধই প্রধান খাবার। এই একমাস অন্য খাবার না দেওয়াই ভাল। এরপর থেকে তেল-মসলা ছাড়া সেদ্ধ করা মুরগির মাংস বা মাছ বা কলিজা খুব ছোট ছোট করে কেটে বা চটকে খাওয়াতে পারেন।

৪. প্রশ্ন: বিড়ালকে কত দিন পর পর কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হয়?

উত্তর: বিড়ালের বয়স ও ওজন অনুপাতে প্রতি ৩ মাস পর পর নিয়মিত কৃমির ওষুধ (Deworming) খাওয়াতে হবে।

৫. প্রশ্ন: দেশি বিড়ালকে কখন প্রথম ভ্যাকসিন দিতে হয়?

উত্তর: জন্মের পর বিড়ালের বাচ্চার বয়স যখন ২ থেকে আড়াই মাস হয়, তখন তাকে প্রথম কোর (Core/Tri-cat) ভ্যাকসিন দিতে হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার এক মাস পর বুস্টার ডোজ দিতে হবে।

৬. প্রশ্ন: বিড়ালকে ঘরের বাইরে পটি করা কীভাবে বন্ধ করব?

উত্তর: ঘরে একটি নির্দিষ্ট কোণায় লিটার বক্স বা বালুর গামলা রেখে দিন। বিড়াল যখন মলমূত্র ত্যাগের চেষ্টা করবে, তখন তাকে তুলে বক্সে বসিয়ে দিন। এবাবে কয়েকদিন করলেই সে নির্দিষ্ট স্থানে পটি করা শিখে যাবে।

৭. প্রশ্ন: বিড়ালের লিটার বক্স কত দিন পর পর পরিষ্কার করা উচিত?

উত্তর: প্রতিদিন কমপক্ষ্যে দুইবার লিটার বক্সের জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে হবে এবং সপ্তাহে একবার পুরো বালু বদলে বক্সটি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

৮. প্রশ্ন: দেশি বিড়াল হঠাৎ খাওয়া বন্ধ করে দিলে কী করব?

উত্তর: আপনার বিড়াল যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোনো খাবার না খায় এবং নিরব হয়ে বসে  থাকে, তবে ঘরে কোনো ওষুধ খাওয়াবেন না, যত তারাতারি সম্ভব একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৯. প্রশ্ন: বিড়াল কেন ঘরের আসবাবপত্র বা সোফা আঁচড়ায়?

উত্তর: এটি বিড়ালের একটি স্বাভাবিক আচরণ। বিড়াল তার নখ ধারালো করা এবং নিজের সীমানা নির্ধারণের জন্য সাধারণত স্ক্র্যাচ করে থাকে। এর প্রতিকারের জন্য বাজার থেকে একটি 'স্ক্র্যাচিং পোস্ট' কিনে ঘরে রাখতে পারেন।

১০. প্রশ্ন: নিউটারিং বা বন্ধ্যাত্বকরণ করা কি বিড়ালের জন্য নিরাপদ?

উত্তর: হ্যাঁ, ৫-৬ মাস বয়স হলে বিড়ালকে নিউটার বা স্পে করতে হবে এবং এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর ফলে আপনার বিড়ালের মেজাজ শান্ত থাকবে ও জরায়ু বা প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যাবে।

১১. প্রশ্ন: দেশি বিড়াল কত বছর বাঁচে?

উত্তর: বিড়াল যদি সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত চিকিৎসা পায়, তবে একটি দেশি বিড়ালও ঘরের নিরাপদ পরিবেশে ১২ থেকে ১৫ বছর বত্সর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

১২. প্রশ্ন: বিড়ালকে কি মানুষের সব খাবার খাওয়ানো যায়?

উত্তর: না, মানুষের তৈরি তেল, মসলা, ঝাল এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার বিড়ালকে খাওয়ানো ঠিক না। এতে বিড়ালের লিভার ও কিডনির মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১৩. প্রশ্ন: বিড়ালের জন্য কোন খাবারগুলো বিষাক্ত?

উত্তর: বিড়ালের শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে এমন কিছু খাবারের মধ্যে রয়েছে রসুন, পেঁয়াজ, চকলেট, কফি ও চা। এছাড়া আঙুর, কিসমিস কিংবা কাঁচা মাছ ও মাংস খাওয়ালে বিড়ালের জীবনহানির ঝুঁকি থাকে।


১৪. প্রশ্ন: বিড়ালের অতিরিক্ত লোম ঝরা কীভাবে বন্ধ করা যায়?

উত্তর: প্রতিদিন নিয়মিত ক্যাট ব্রাশ দিয়ে বিড়ালের লোম আঁচড়ে দিতে পারেন। এছাড়া খাবারে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করলে এবং ৩ মাস পর পর কৃমির ওষুধ খাওয়ালে লোম ঝরা অনেক কমে যায়।

১৫. প্রশ্ন: ইসলাম ধর্মে বিড়াল পোষার বিধান কী?

উত্তর: ইসলাম ধর্মে বিড়াল পোষা সম্পূর্ণ জায়েজ এবং সওয়াবের কাজ হিসাবে গণ্য। বিড়াল একটি পবিত্র প্রাণী। তবে তাকে ঘরে রাখলে নিয়মিত খাবার দিতে হবে এবং কোনো প্রকার কষ্ট দেওয়া যাবে না ।বিড়ালকে কষ্ঠ দিলে কঠিন আযাব ভোগ করতে হবে।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পুরুষ মাছই সন্তানের জন্ম দেয়, স্ত্রী নয়! সমুদ্রের বিস্ময় - সি হর্স

  নতুনকে দেখা আর জানার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। আমার ইচ্ছা দুনিয়ার সমস্ত প্রাণী সম্পর্কে জানব। হোক সে দুনিয়ার উপরে বা মাটির নিচের অথবা পানির নিচের। সে স্বপ্ন নিয়েই আমার পথ চলা। সে ধারাবাহিকতাই আজ জানব অফুরন্ত বিস্ময়ের ভিড়ে সবচেয়ে অদ্ভুত আর নজরকাড়া এক প্রাণী সম্পর্কে যার নাম সি হর্স ( Sea Horse ) বা সমুদ্রঘোড়া । প্রাণীটিকে আমি প্রথম দেখি একটি ভিডিওতে, আমার মনেই হয়নি এটি কোনো মাছ । এর বিচিত্র গ ঠ ন ও অদ্ভুত লাইফস্টাইল যুগ যুগ ধরে আমার মত বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে । সি হর্স - নামকরণের ইতিহাস সি হর্সের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Hippocampus । শব্দটা শুনতে বেশ ভারী মনে হলেও এর উৎপত্তি কিন্তু দারুণ । প্রাচীন গ্রিক ভাষার দুটি শব্দ—‘ Hippos’ ( যার অর্থ ঘোড়া) এবং ‘ Kampos ’ ( যার অর্থ সমুদ্রের দানব) মিলেই তৈরি হয়েছে এই নাম । আসলে , এই মাছগুলোর মাথা , বাঁকানো ঘাড় আর মুখের সম্মুখভাগ দেখতে হুবহু ডাঙার তেজী ঘোড়ার মতো । প্রকৃতির এই অদ্ভুত মিলের কারণেই সাধারণ মানুষ ভালোবেসে এর নাম দিয়েছে ‘সমুদ্রঘোড়া’ । শুধু সাধারণ মানুষই নয় , প্রাচীন গ্রিক ও রোমান রূপকথাতেও এর রোমাঞ্চকর গল্প রয়েছে । পৌর...